রমযানে স্বস্তি
- গল্প লিখেছেনঃ সোহেল রানা
- তারিখঃ 2017-03-07
- ভিজিটঃ 1470
।রমযানের সংযমের সময়টাতেই অসংযমী হয়ে পড়েন অসাধু ব্যবসায়ী মহল। ইফতার ও
সেহরির বিভিন্ন বিশেষ ভোগ্য পণ্য বাদেও বাড়তে থাকে নিত্য পণ্যের প্রয়োজনীয় দাম। এর
সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে বিভিন্ন কায়দায় ভেজাল মেশানো, মজুদদারি, নকল পণ্য। কিন্তু ফেনী জেলার বিশেষ করে
ফেনী শহরের এবারের রমযানের ঈদ কাটল একটু ভিন্ন আংগিকে। পুরো রমজান জুড়ে জেলা প্রশাসন
সরব ছিল ভেজাল ও প্রতারণার প্রায় প্রতিটি খাতেই। এরই ধারাবাহিকতায় পরিচালনা করি অসংখ্য
অভিযান। বাজারে মূল্যতালিকা, পচা-বাসি মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর, পচা ও বাসি মিষ্টি, ইটের গুড়া দিয়ে তৈরী মরিচ, সয়াবিনের নামে সুপার তেল বিক্রি, পাইকারি বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির
উপর বিশটির অধিক অভিযান পরিচালনা করি। জরিমানা আদায় করা হয় দশক লক্ষেরও অধিক অর্থ।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ
আইনেই মূলত পরিচালিত হয় এসব অভিযান। পুরো রমযান জুড়ে ফেনীর সাধারণ ক্রেতা ও
ব্যবসায়ীদের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে এসব অভিযান। শহরের প্রধান আড়ত তাকিয়া রোডে
প্রায় বন্ধ হয়ে যায় সয়াবিন এর নামে সুপার তেলের বিক্রি।কাচা বাজারে দেখতে পাওয়া যায় মূল্য তালিকা।
শপিং মলগুলোতে অনৈতিক ও যথেচ্ছা মুনাফায় পোশাক বিক্রি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। রমযানে
ফেনীর এই পরিবর্তন নিয়ে জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ কিছু রিপোর্ট হয়।এটি
একটি পরিবর্তনের গল্প। আন্তরিকতা আর প্রচেষ্টা থাকলে অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও
পরিবর্তন আনা যায় সমাজে। জনশৃংখলা ও আইনের শাসন রুক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটও
যে পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, ফেনীর
এবারের রমযান তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।