আয়েশা আবার স্কুলে যাচ্ছে…

Client Logo
  গল্প লিখেছেনঃ  ahammed.jafrin
  তারিখঃ 2016-11-15
  ভিজিটঃ 426

চৌগাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী আয়েশা আক্তার। লেখাপড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং বিনয়ী ব্যবহারের কারণে স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠী এবং পাড়ার সবার প্রিয়মুখ আয়েশা। সবার মধ্যমণি আয়েশা একদিন স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। একদিন যায়, দুইদিন যায়, তিনদিন যায়। শিক্ষক, সহপাঠী সকলেই বিস্মিত। আয়েশা কখনোই স্কুল কামাই করেনা, এমনকি অসুস্থ অবস্থাও তার স্কুলে আসা থামাতে পারে না। উদবিগ্ন সহপাঠী এবং শিক্ষকদের উৎকন্ঠায় তার ঘরে গিয়ে খবর নিতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এক মর্মন্তুদ কাহিনী। স্কুলে আসা যাওয়ার পথে একই পাড়ার বখে যাওয়া, মাদকাসক্ত কিছু যুবক প্রায়ই উত্যক্ত করত আয়েশাকে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান আয়েশা তার বাবা-মা কে জানায় ব্যাপারটা। মেয়ের নিরাপত্তায় উদবিগ্ন বাবা-মা নিরুপায় হয়ে আয়েশাকে স্কুলে যেতে নিষেধ করে। কিন্তু সাহসী আয়েশা তারপরও স্কুলে যাওয়া থামায়নি। কিন্তু দুর্বৃত্তের দল শুধু বাজে মন্তব্যেই থেমে থাকে নি, একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে আয়েশাকে একা পেয়ে সেই যুবকেরা তার গায়ে হাত তুলে এবং তাদের বাজে প্রস্তাবে সাড়া না দিলে এসিডে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকিও দেয়। দৃঢ়চেতা আয়েশা এইবার ভেঙ্গে পড়ে এবং স্কুল তো দূরের কথা, ঘর থেকেই বের হতে ভয় পায় সে। সুন্দর আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো আয়েশার সকল স্বপ্ন মুখ থুবড়ে পড়ে কতিপয় বখাটের কারণে। কিন্তু এখানেই শেষ নয় এই কাহিনী। বখাটে যুবকদের এই দুর্বৃত্তপনার খবর জেনে ফুসে উঠে আয়েশার সহপাঠী এবং শিক্ষকেরা। তারা এই বিষয় নিয়ে স্কুলের সামনে মানব্বন্ধন এবং ক্লাস বিরতি পালন করে একদিন। এই খবর পেয়ে চৌগাছার ইউএনও মো তৌফিক জোয়াদ্দার এবং উক্ত থানার ওসি সালাউদ্দিন সাহেবের প্রত্যুৎপন্নমতিতায় অন্য মেয়েদের উত্যক্ত করার সময় পরের দিনই মোবাইল কোর্টের সামনে হাতে নাতে ধরা পড়ে সেই যুবকেরা। ইভটিজিং এর দায়ে তাদের ১০ মাস ১০ দিন কারাদন্ড এবং ১০১০১০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এই ঘটনায় এলাকার সকলেই একাত্ন বোধ করে এবুং এইসব বখাটেদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করে তারা। পরেরদিন থেকেই আয়েশা আবার স্কুলে যেতে শুরু করে; আকাশ ছোয়ার স্বপ্নটা আবার খেলা করতে থাকে আয়েশাদের মনের কোণে… একটি সোনার বাংলাদেশের…


 প্রিন্ট