মাদকাসক্তরাই এখন দেখাচ্ছে মাদকমুক্ত জীবনের আলো…

Client Logo
  গল্পটি লিখেছেনঃ  মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান
  তারিখঃ 2016-12-03
  ভিজিটঃ 140

নাটোর সদর পৌরসভাস্থ স্টেশন বাজার উত্তর বড়গাছা গ্রাম। কৃষিতে সমৃদ্ধ এই গ্রামে মোটামুটি সবার সচ্ছল জীবন। কিন্তু গত কিছুদিন ধরেই গ্রামের মুরুব্বিরা খেয়াল করছেন গ্রামের তরুন-যুবকদের ব্যবহার কেমন পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। আগে এলাকার তরুন-কিশোর-যুবকেরা লেখাপড়া, খেলাধূলা এবং পাড়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থাকতো।  বনভোজন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজনের মাধ্যমে এলাকায় শান্তির পরিবেশ বিরাজ করতো। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরেই নম্র ভদ্র এই যুবকেরা উশৃংখল আচরণ করছে। স্কুল-কলেজে অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, এলাকায় বিক্ষিপ্ত কিছু ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। চিন্তিত এই বয়স্ক জনেরা গোপনে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পান, এলাকার কিছু বখে যাওয়া যুবক এলাকার মোঃ জালাল বক্স এর টিনসেড বাড়ীর পশ্চিম পাশের বাগানে এক গাজার আস্তানা তৈরি করেছে এবং তাতে এলাকার যুবকদের ভিড় বাড়ছেই। ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন অবশেষে।

খবরাদি সংগ্রহের পর নাটোর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান র‌্যাব-৫ ক্যাম্প কমান্ডার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান (অতিঃ পুলিশ সুপার)-এর টিমের সহযোগিতায় অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঐ গাজার আখড়ায় উপস্থিত হন এবং হাতে নাতে ০৭ জন মোঃ ফারুক প্রাং(৪৫), পিতা-বুদু প্রাং সাং চকবৈদনাথ, নাটোর সদর; মোঃ খালেক (৩০), পিতা-মৃত মনসুর, সাং চকবৈদনাথ, নাটোর সদর; মোঃ সুমন মন্ডল(২৬), পিতা- মৃত শুকুর আলী, সাংপশ্চিম বড়গাছা, নাটোর সদর; মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (২৫), পিতা-আনিছুর রহমান সাং উকিবাজি, শিবগজ্ঞ, বগুড়া; মোঃ সাজেদুল ইসলাম (২২), পিতা-মৃত ছাত্তার শেখ সাং পশ্চিম বড়গাছা, নাটোর সদর; মোঃ হাকিম আলী(৪০), পিতা- মোঃ আবু তাহের সাং স্টেশন বাজার, নাটোর সদর এবং মন্ডল হোসেন (৩০), পিতা- মৃত উজির আলী, সাং দক্ষিণ বড়গাছা, নাটোর সদর কে গ্রেফতার করেন এবং (প্রত্যেককে) ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয় ।


তবে সেই করিৎকর্মা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এতেই থেমে থাকেননি। তিনি এলাকার যুবকদের নিয়ে বসেন এবং তাদের দৃঢ় মনোবল এবং সুস্থ জীবনে ফেরার ইচ্ছা দেখে তিনি তাদের বিভিন্ন আয়বৃদ্ধিমূলক কাজে নিয়োজিত করেন। এখন ঐ এলাকার যুবকদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংসারের হাল ধরেছেন। তারা এখন একটি সমাজ উন্নয়নমূলক ক্লাবও চালু করেছেন এবং সেই ক্লাব নানা আয়োজনের মাধ্যমে মাদকের কুফল সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন