পাহাড় টিলাকে রাখব মুক্ত

Client Logo
  গল্পটি লিখেছেনঃ  মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন
  তারিখঃ 2016-11-25
  ভিজিটঃ 243
 বাংলাদেশ মূলত সমতল ভূমির দেশ। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল এবং সিলেটেই রয়েছে পাহাড় এবং ছোট ছোট টিলা । এই পাহাড়-টিলা একদিকে যেমন আমাদের দেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে, তেমনি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কিন্তু একশ্রেণীর অসাধু লোক, ভূমিদস্যু ও লোভী ব্যক্তির কারণে আশংকাজনক হারে কাটা পড়ছে পাহাড়-টিলা, পরিবেশ প্রতিবেশ হচ্ছে বিপন্ন । সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছোট ছোট পাহাড় ও টিলার জন্য প্রখ্যাত। এ এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এসব পাহাড়-টিলার রয়েছে অসীম অবদান। কিন্তু ভূমিদস্যুদের কালো থাবা এখানেও প্রকটভাবে বিরাজমান। এমতাবস্থায়, পরিবেশরক্ষার গুরু দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় চলছে একবিশেষ অভিযান। বিগত ২৩  নভেম্বর ২০১৬ তারিখ গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় নামক স্থান হতে টিলা কেটে পুকুর ভরাট করার অপরাধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ৬খ ধারা অনুযায়ী পাহাড় টিলা কাটার অপরাধে উক্ত আইনের ১৫ ধারার ১(৪) উপধারায় জয়নাল মিয়া(৩৫) ও কালন মিয়া (৪৫) নামক  দুইজনকে  ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে । গোপন সূত্রের ভিত্তিতে খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন থানার পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার নব নিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন। এ কাজে জড়িতদের বিরূদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান। তিনি পাহাড় বা টিলা কাটার বিরূদ্ধে পুলিশ বাহিনী, ভূমি অফিসের ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার, সংবাদকর্মীদেরও এ ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন। পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে বলে তিনি জানান। শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের সকল স্তরের নাগরিকের সহায়তায় এই অভিযান আরো বেগবান হবে । গোলাপগঞ্জের মতো বাংলাদেশের সকল জায়গাতেই পাহাড় কাটা, সর্বোপরি পরিবেশ রক্ষায় সবাই সচেষ্ট হবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা। তাহলেই সত্যিকারের সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা ‘সোনারবাংলা’ আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মকে উপহার দিতে পারবো।